শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২০

করোনাকালে গৃহবন্দী থাকা অবস্থায় নিজেকে এগিয়ে রাখুন অনলাইন ফ্রী কোর্স করে


করোনাকালে গৃহবন্দী থাকার এই সময়ে নিজেকে এগিয়ে রাখতে পারেন অনলাইনে কোর্স করে। কোর্সেরা (www.coursera.org) আর এডেক্সের (www.edx.org) মতো ওয়েবসাইটগুলো অনলাইন কোর্স করার জন্য দারুণ জনপ্রিয়। এই ওয়েবসাইটগুলোতে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়, ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (এমআইটি), ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো নামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে গুগল, মাইক্রোসফটের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর বিভিন্ন কারিগরি কোর্স করার সুযোগ রয়েছে। জেনে নিই এমন কিছু কোর্সের তথ্য।


নিজেকে জানতে যে কোর্স

ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘দ্য সায়েন্স অব ওয়েল-বিং’ নামের একটি কোর্স ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক পর্যায়ের সব শিক্ষার্থীকেই করতে হয়। অনলাইনে এ পর্যন্ত কোর্সটি পাঁচ লাখ চার হাজারের বেশি শিক্ষার্থী সম্পন্ন করেছেন। আপনি যে বিষয়েই পড়ুন না কেন, নিজের জীবন, নিজের মনের ওপর ইতিবাচক প্রভাব তৈরির গুরুত্ব নিয়েই কোর্সটি সাজানো হয়েছে। এটি চার সপ্তাহের কোর্স।

ঠিকানা: এখানে Enroll করে ফেলুন

কম্পিউটার বিজ্ঞান

অনলাইনের আরেকটি জনপ্রিয় কোর্স হচ্ছে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘সিএস৫০ ইন্ট্রোডাকশন টু কম্পিউটার সায়েন্স’। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এই কোর্সটি সব বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উপযোগী করে তৈরি করা। ১২ সপ্তাহের
কোর্সটি অনলাইনে প্রোগ্রামিং ভাষা, কম্পিউটার বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয় আর গাণিতিক চিন্তাভাবনা বিকাশ সম্পর্কে শেখায়।

ঠিকানা: এখানে Enroll করে ফেলুন

ব্যবসায় শিক্ষা

অর্থ সংস্থান, প্রকল্প ব্যবস্থাপনা, বিপণন, নেতৃত্ব বিষয়ে এডেক্সের ব্যবসাবিষয়ক অনলাইন কোর্সগুলো শুরু করতে পারেন। এমআইটির সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট, হোয়ার্টন স্কুলের স্ট্র্যাটেজিক ম্যানেজমেন্ট, রচেস্টার ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট কোর্স শুরু করতে পারেন।

ঠিকানা:এখানে Enroll করে ফেলুন

ভাষাশিক্ষা ও যোগাযোগ দক্ষতা

অনলাইনে আপনি ভাষাশিক্ষাসহ যোগাযোগ দক্ষতা,
প্রেজেন্টেশন তৈরিসহ বিভিন্ন বিষয়ে কোর্স করতে পারেন। আইইএলটিএস, টোয়েফেলের মতো ইংরেজি ভাষা দক্ষতার পরীক্ষা থেকে শুরু করে চীনা বা জার্মান ভাষা শেখার সুযোগ মিলছে এডেক্স আর কোর্সেরার মতো অনলাইন পোর্টালে।

যোগাযোগ দক্ষতা বিকাশের জন্য ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রিপেয়ারিং টু নেটওয়ার্ক ইন ইংলিশ করতে পারেন।

ঠিকানা: এখানে Enroll করে ফেলুন 

হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘দ্য আর্ট অব পারসুয়েসিভ রাইটিং অ্যান্ড পাবলিক স্পিকিং’ কোর্সের মাধ্যমে ৮ সপ্তাহে দক্ষ বক্তা হয়ে ওঠার কৌশল শিখতে পারছেন।

ঠিকানা: এখানে Enroll করে ফেলুন

চাকরির জন্য যেসব দক্ষতা প্রয়োজন সে সম্পর্কেও এডেক্সের মাধ্যমে শিখতে পারবেন। বিজনেস কমিউনিকেশন, টিমওয়ার্ক ও কলাবুরেশন, ক্রিটিক্যাল থিংকিং ও প্রবলেম সলভিং, ভিজ্যুয়াল প্রেজেন্টেশনসহ নানা দক্ষতার বিভিন্ন কোর্স চালু আছে রচেস্টার ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির। একেকটি কোর্স তিন সপ্তাহের করে।

ঠিকানা: এখানে Enroll করে ফেলুন

কারিগরি শিক্ষা

কারিগরি শিক্ষার সুযোগ মিলছে অনলাইন সাইটগুলোতে।
গুগল আইটি সাপোর্ট কোর্সটি এখন পর্যন্ত ২ লাখ ৮০ হাজারের
বেশি শিক্ষার্থী সম্পন্ন করেছেন। এ ছাড়া গুগল আইটি অটোমেশন, ক্লাউড আর্কিটেকচার, মেশিন লার্নিংসহ বিভিন্ন কোর্স সরাসরি করা যাচ্ছে অনলাইন থেকে।

ঠিকানা: এখানে Enroll করে ফেলুন

এ ছাড়া মাইক্রোসফট এক্সেল, ওয়ার্ডসহ বিভিন্ন সফটওয়্যারের ওপর অনলাইনে কোর্স শেখার সুযোগ আছে।

ঠিকানা: এখানে Enroll করে ফেলুন

যা খেয়াল রাখতে হবে

প্রতিদিন এক থেকে দুই ঘণ্টা সময় বরাদ্দ করলে খুব
সহজেই দ্রুত কোর্স সম্পন্ন করা যায়। সব অনলাইন কোর্সের
ভাষা ইংরেজি। তাই ইংরেজি ভাষা প্রাথমিকভাবে
বোঝার দক্ষতা থাকা বেশ জরুরি। সব অনলাইন কোর্সই
বিনা মূল্যে পড়ার জন্য নাম নিবন্ধন করতে পারবেন। সনদ নিতে
চাইলে বাড়তি অর্থ আপনাকে জমা দিতে হবে।
  • সূত্রঃপ্রথম আলো
  • তাহমিদা হোসাইন: ফুলব্রাইট স্কলার, টেক্সাস এঅ্যান্ডএম ইউনিভার্সিটি, যুক্তরাষ্ট্র

আমরা পিছিয়ে আছি কেন?


আমাদের সবার মধ্যে একটা বিষয় সবসময় কাজ করে, আমরা কেন পিছিয়ে পড়ছি, কেন পিছিয়ে আছি। একটু ঠান্ডা মাথায় চিন্তা করুন, উত্তর পেয়ে যাবেন। আমি একটু সহজ করে দিচ্ছি।
১) ভর্তির সময় একটা বিষয় কাজ করেছে, পাস করলেই চাকুরী। কোনভাবে পাস করলেই হোল।
২) শুরু করেছি এস এন পান্ডে’র বাংলা এনাটমি বই দিয়ে।
৩) স্কুলের কথা বাদই দিলাম। ডিপ্লোমা পড়তে গিয়ে প্রতি পদে পদে ইংরেজীকে অবহেলা করেছি।
৪) আমরা সবার সেরা। কারো গাইড লাইন আমাদের লাগে না। আমিই আমার শ্রেষ্ট গাইড।
৫) সিলেবাস ও বিগত বছরের প্রশ্ন ফলো করে তিন বছর পরীক্ষা দিয়েছি। সব বিষয়ে এক চান্সে পাস করে চান্স মেরেছি। কিন্তু নিজের ফিউচার চান্স হারিয়ে ফেলেছি, সেইটি মাথায় একদম আসে না।
৬) পাঠ্য সুচির বাইরে পড়া লেখায় অনাগ্রহ।
৭) তিন বছর পড়া লেখার পর আরো অনেক বিষয় জানার আছে, তা বুঝেও চুপ মেরে আছি।
৮) চাকুরী চাই, চাকুরী চাই বলে ফেসবুকের গ্রুপে ফাটিয়ে দিচ্ছি, কিন্তু চাকুরী করার জন্য বিশেষ দক্ষতা গুলো কি কি সেই বিষয়টি কখনো জানার চেষ্টা করি না।
৯) গলায় স্টেথো লাগিয়ে হাটা চলাকে গর্বিত মনে করি, কিন্তু স্টেথোর কি কি কাজ তা ১০ ভাগও ভালো ভাবে না জেনে সবজান্তার ভান ধরি।
১০) একটি ভালো সিভি কিভাবে লিখতে হয়, তা বাদই দিলাম, চর্চা করার মানসিকতাটা আমাদের নেই।
১১) চাকুরীর জন্য মামা খালু নামক ভুত আমাদের ঘাড়ে চেপে বসেছে। তাকে নামানোর ইচ্ছা আমাদের নেই।
১২) ১৫ লক্ষ টাকা ঘুষ দিয়ে সরকারী চাকুরী নিতে রাজী, কিন্তু ১৫ লক্ষ টাকা কিভাবে আসবে, কিভাবে পরিশোধ করব? কেউ চিন্তা করতে রাজী নয়।
১৩) মিডিয়ায় সরকারী চাকুরীরজীবিদের অবৈধ উপায়ে কোটি কোটি টাকা আয়ের খবর সরকারী চাকুরীর প্রতি আমাদের লোভ বাড়িয়ে দিয়েছে।
১৪) ৪ বছর পড়াশুনা শেষ করে নিজেকে অনেক বড় ডাক্তার ভাবা শুরু করেছি।
১৫) আমরা নিজেরা ভালো কিছু করি না, আবার অন্য কেউ ভালো কিছু করলে তা মেনে নিয়ে পারি না, সাধুবাদ জানাতে আমাদের খুব কষ্ট হয়।
১৬) সরকারী চাকুরী পাওয়ার পর ইমারজেন্সিতে ভাগ বাটোয়ারা নিয়ে ওয়ার্ড বয়দের সাথে প্রতিযোগিতা করা।
১৭) আরো অনেক কারণ……।

Blog Writer : Syed Jahed Hossain

কেন হতাশ ডি,এম,এফ সমাজ?

কেন হতাশ ডি,এম,এফ সমাজ?

✅ যে ডিএমএফ এর সরকারী চাকুরীর প্রতি লোভ বেশী, সে নিজেকে সবসময় বেকার ভাবে।
✅ যে ডিএমএফ নিজেকে বেকার ভাবে, সে কখনো চিন্তা করে না, আসলে সে নিজে কি!
✅ যে ডিএমএফ এর কাজ করার মানসিকতা কম, সে শুধু বেকার নয়, সমাজের অভিশাপও বটে।
✅ চাকুরীর সন্ধান করাটা এক ধরনের চাকুরী। যে চাকুরীর সন্ধান করতে গিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া ফেসবুক অন্যান্য ফালতু কাজে (যেমন মানুষের হাড়ির খবর নেওয়া, কাউকে বার বার মেসেঞ্জারে মেসেজ দিয়ে, কল দিয়ে বিরক্ত করা, অপরিচিত মানুষের প্রোফাইলে ছবি দেখা ইত্যাদি) ব্যবহার করে, সে হচ্ছে সোশ্যাল গাধা।
✅ যে ডিএমএফ শিক্ষা জীবনে নিজেকে ফাঁকি দিয়েছে, চাকুরীও তাকে ফাঁকি দিতে পারে।
✅ যে ডিএমএফ নিজে কিছু করার ক্ষমতা রাখে না, সে অন্যের ক্ষমতা ও সামর্থ্যকে ছোট করে দেখে।
✅ যে ডিএমএফ চার বছর শিক্ষা গ্রহনের পর, নিজেকে জ্ঞানী ভাবা শুরু করেছে, নিজেকে আর শিক্ষিত হওয়ার প্রয়োজন মনে করে না, সে দিনের পর দিন নিজেকে অশিক্ষিত লোকের কাতারে নিয়ে যাচ্ছে।
✅ যে ডিএমএফ অন্যের কাছ থেকে শিক্ষা গ্রহনকে লজ্জা মনে করে, সে সমাজে নির্লজ্জ হতে বেশী সময় লাগবে না।
✅ যে ডিএমএফ চাকুরী পাওয়াটা মামা খালুর ব্যাপার মনে করে, তার শিক্ষায় দুর্বলতা রয়েছে।
সবশেষে একটা কথা বলতে চাই, মাশরাফি, সাকিব, তামিম রা কেউ ক্রিকেটার হয়ে জন্মায়নি। তারাও আমাদের মত জন্মেছে। কিন্তু তাদের চিন্তা ধারা পরিশ্রম তাদের আজ এই পর্যন্ত নিয়ে এসেছে। সমাজে বড় হতে গেলে নিজেকে মাশরাফি, সাকিব, তামিম হতে হবে না, পরিশ্রম করুন, সাধনা করুন, চিন্তা ধারার পরিবর্তন ঘটান। আপনার সফলতা কেউ ঠেকাতে পারবে না।

Blog Writer : Syed Jahed Hossain

ব্রিটিশ-পাকিস্তান আমলের এল.এম.এফ ডাক্তারের বর্তমান রূপ ডি.এম.এফ ডাক্তার

ব্রিটিশ-পাকিস্তান আমলের এল.এম.এফ ডাক্তারের বর্তমান রূপ ডি.এম.এফ ডাক্তার

আধুনিক এ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসা বিজ্ঞান সম্পর্কিত ইতিহাস থেকে জানা যায়, ১৭০০ খ্রীষ্টাব্দের শুরুর দিক থেকেই আজকের এই বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান ছিল ব্রিটিশ সরকারের উপনিবেশ। যা এশিয়া উপমহাদেশ নামে পরিচিত ছিল। এই উপমহাদেশটি তিনটি ভাগে বিভক্ত ছিল। 

প্রথমত; ভারত অনেকগুলো অঙ্গরাজ্যের সমন্বয়ে। দ্বিতীয়ত; পূর্ব বঙ্গ বা বাংলা বর্তমানে বাংলাদেশ। তৃতীয়ত; পশ্চিম পাকিস্তানের প্রদেশ সমূহ বর্তমানে পাকিস্তান। অষ্টাদশ শতক পর্যন্ত এ উপমহাদেশ এ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসা বিদ্যায় তেমন কোনো উন্নতি সাধন করতে পারেনি। যার কারণে ব্রিটিশরা এ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসা বিদ্যার উন্নতির জন্য এই উপমহাদেশটির কিছু অঙ্গরাজ্য সমূহে ‘স্টেট মেডিকেল ফ্যাকাল্টি- রাষ্ট্রীয় চিকিৎসা অনুষদ’ তৈরি করে বিভিন্ন ‘মেডিকেল স্কুল’ সমূহের মাধ্যমে চিকিৎসা বিদ্যায় লাইসেন্সশিয়েট অব মেডিকেল ফ্যাকাল্টি (এল.এম.এফ) কোর্স মেম্বার অব মেডিকেল ফ্যাকাল্টি (এম.এম.এফ) কোর্স পরিচালনা করেছিলেন। যাতে করে এই উপমহাদেশে মধ্যম মানের চিকিৎসক তৈরি করা সহজতর হয়। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির রাজত্বককালে পূর্ব বঙ্গে মোট ৬ টি মেডিকেল স্কুল প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রথমত ১৮৭৫ সালে ঢাকা মেডিকেল স্কুল প্রতিষ্ঠিত হয় মিডফোর্ড হাসপাতাল কে অন্তর্ভূক্ত করে (যা বর্তমানে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ)। তারপর ১৯২০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, রাজশাহী ও সিলেট মেডিকেল স্কুল। ১৯২৫ সালে আরেক টি মেডিকেল স্কুল ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল ইনস্টিটিউশন প্রতিষ্ঠিত হয়। ব্রিটিশ মেট্রিকুলেশন/ মেট্রিক পাশ করার পর এ সকল মেডিকেল স্কুল সমূহে ৪ বছর মেয়াদী এল.এম.এফ কোর্স করা যেত। এছাড়াও তৎকালীন (১৮২২-১৯৬০ সাল) সময়ে ভারত ও পশ্চিম পাকিস্তানে আরো কিছু মধ্যম মানের ডাক্তারি কোর্স যেমন; লাইসেন্সশিয়েট অব মেডিসিন এন্ড সার্জারি- এল.এম.এস; ডিপ্লোমা ইন মেডিসিন এন্ড সার্জারি- ডি.এম.এস; ডিপ্লোমা অব মেডিকেল প্র্যাকটিশনার- ডি.এম.পি; লাইসেন্সশিয়েট- এল.এস.এম.এফ; মেম্বারশিয়েট- এম.এস.এম.এফ; লাইসেন্সড্ টু মেডিকেল প্র্যাকটিস- এল.এম.পি চালু ছিল। রেফারেন্স; বাংলাদেশ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিল এ্যাক্ট-১৯৭৩; ১৯৮০; ইন্ডিয়া মেডিকেল কাউন্সিল এ্যাক্ট-১৯৫৬; পাকিস্তান মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিল এ্যাক্ট ইত্যাদি।
ব্রিটিশদের সৃষ্ট স্টেট মেডিকেল ফ্যাকাল্টি সমূহ হল স্টেট মেডিকেল ফ্যাকাল্টি অব ইষ্ট বেঙ্গল, স্টেট মেডিকেল ফ্যাকাল্টি অব ওয়েষ্ট বেঙ্গল, স্টেট মেডিকেল ফ্যাকাল্টি অব মহারাষ্ট্র, স্টেট মেডিকেল ফ্যাকাল্টি অব ওয়েষ্ট পাকিস্তান, স্টেট মেডিকেল ফ্যাকাল্টি অব ইষ্ট পাকিস্তান, স্টেট মেডিকেল ফ্যাকাল্টি অব পাঞ্জাব, ইত্যাদি। এরই ফলস্রুতিতে ১৯১৪ সালে তৈরি হয় দি স্টেট মেডিকেল ফ্যাকাল্টি অব ইষ্ট বেঙ্গল, এবং ১৯৪৭ সালে তা রূপান্তরিত হয়, দি স্টেট মেডিকেল ফ্যাকাল্টি অব ইষ্ট পাকিস্তান, পরবর্তীতে বাংলাদেশ স্বাধীন হলে, এটিকে ‘দি স্টেট মেডিকেল ফ্যাকাল্টি অব বাংলাদেশ- বাংলাদেশ রাষ্ট্রীয় চিকিৎসা অনুষদ’ নামকরণ করা হয়। ১৯১৪ সাল থেকে ইস্ট বেঙ্গল রাষ্ট্রীয় চিকিৎসা অনুষদ আমাদের পূর্ব বঙ্গে এল.এম.এফ কোর্স ১৯৪৮ সাল থেকে এম.এম.এফ কোর্স চালু করে। এল.এম.এফ, এম.এম.এফ কোর্স দু’টি ১৯৫৭ সাল পর্যন্ত পূর্ব পাকিস্তানে (বাংলাদেশ) চালু ছিল। উল্লেখ্য, ১৯১৪ সালের পূর্বে এই পূর্ব বঙ্গে চিকিৎসা বলতে ছিল কেবল দেশজ কবিরাজ ও হেকিমী চিকিৎসা। অবশ্য ইংরেজরা ১৮২২ সালে কলকাতায় অাধুনিক এ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসায় সর্ব প্রথম ‘নেটিভ মেডিকেল ইন্সটিটিউট’ স্থাপন করলে সেখানে বাংলা ও বিহারের কিছু শিক্ষার্থী এল.এম.এফ; এল.এম.পি সমমান কোর্স করার সুযোগ পেত। তারপর ১৮৩৫ সালে উপমহাদেশে সর্ব প্রথম ‘কলকাতা মেডিকেল কলেজ’ প্রতিষ্ঠিত হয়। কলকাতা মেডিকেল কলেজে এমবিবিএস সমমান কোর্সে বাংলা ও বিহারের হাতে গোনা অল্প কয়েকজন শিক্ষার্থী পড়াশোনার সুযোগ পেত। পাকিস্তান পিরিয়ড়ে পূর্ব বাংলার কিছু কিছু জায়গায় হোমিওপ্যাথি চিকিৎসার প্রচলন শুরু হয়। সেই সাথে আস্তে আস্তে পূর্ব বাংলায় এ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসা বিদ্যার উন্নতি হতে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশে সর্ব প্রথম ১৯৪৬ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়। তখন থেকে চিকিৎসা বিদ্যায় স্নাতক এম.বি.বি.এস ডিগ্রি, ১৯৬১ সালে দন্ত চিকিৎসা বিদ্যায় স্নাতক বি.ডি.এস ডিগ্রি চালু হয়। এই স্নাতক ডিগ্রি গুলো পরিচালিত হচ্ছে এদেশের বিভিন্ন পাবলিক ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে। পরবর্তীতে এদেশে চিকিৎসা বিদ্যায় ও দন্ত চিকিৎসা বিদ্যায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি চালু হয়। সেই সাথে ১৯৫৭ সালের দিকে ব্রিটিশ- পাকিস্তান পিরিয়ডের এদেশের মধ্যম মানের এল.এম.এফ, এম.এম.এফ চিকিৎসকের কোর্স দু’টি তৎকালীন সরকার বন্ধ করে দেয়। তবে, ঐ কোর্স বন্ধ করার পূর্বে তৎকালিন পূ্র্ব পাকিস্তান- বাংলাদেশ সরকার ১৯৬০ সাল থেকে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত স্যার সলিমুল্লাহ্ মেডিকেল কলেজে ( প্রাক্তন ঢাকা মেডিকেল স্কুল) ব্রিটিশ-পাকিস্তান পিরিয়ডের চিকিৎসা বিদ্যায় লাইসেন্সশিয়েট অব মেডিকেল ফ্যাকাল্টি, মেম্বার অব মেডিকেল ফ্যাকাল্টি (এল. এম. এফ; এম. এম. এফ) সার্টিফিকেট কোর্সধারী ডিপ্লোমা সমমান চিকিৎসকদের ২ বছর মেয়াদে কনডেন্সে এমবিবিএস কোর্স করিয়ে প্রশাসন, জেলা ও মহুকুমা হাসপাতালে নিয়োগ প্রদান করেন। পরবর্তীতে এই চিকিৎসকরা অনেকেই মেডিকেল অধ্যাপকও হয়েছেন। একই ভাবে তৎকালীন ভারত ও পশ্চিম পাকিস্তানের অধিকাংশ (এল. এম. এফ; এম. এম. এফ) সার্টিফিকেট কোর্সধারী ডিপ্লোমা সমমান চিকিৎসকগণ ২ বছর মেয়াদে কনডেন্সে এমবিবিএস কোর্স করার সুযোগ পান। উল্লেখ্য, (এল. এম. এফ; এম. এম. এফ) সার্টিফিকেট কোর্সধারী ডিপ্লোমা সমমান চিকিৎসকগণ রাষ্ট্র কর্তৃক নিযুক্ত হয়ে মেডিকেল এ্যাসিস্ট্যান্ট ও উপসহকারী সার্জন পদবিতে সরকারি চাকরি করতেন। এ সকল চিকিৎসকদের প্রত্যেকে ‘মেডিকেল কাউন্সিল’ কর্তৃক নিবন্ধিত ছিলেন। চিকিৎসা পোশার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ পদবি নয় বিদায় পরবর্তীতে মেডিকেল এ্যাসিসট্যান্ট পদবি টি পরিবর্তন করে উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার রাখা হয়। এবং সহকারী সার্জন পদবি টি গ্র্যাজুয়েট চিকিৎসকদের জন্য সংরক্ষণ করা হয়। ১৯৪৬ সালের পূর্বে বর্তমান বাংলাদেশে যখন স্নাতক এমবিবিএস ডিগ্রি কিংবা স্নাতক ‘মেডিকেল কলেজ’ প্রতিষ্ঠান কোনোটাই ছিল না, তখন ‘মেডিকেল স্কুল’ পাশ এই (এল. এম. এফ; এম. এম. এফ) সার্টিফিকেট কোর্সধারী ডিপ্লোমা সমমান চিকিৎসকগণ আবহমান গ্রাম বাংলা, পল্লী, শহর নির্বিশেষে সকল মানুষের সর্বোত্তম এ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসা সেবা প্রদান করেছেন। রেফারেন্স বুক; মিডফোর্ড হাসপাতাল ও ঢাকা মেডিকেল স্কুল ইতিহাস ও ঐতিহ্য ১৮৫৮- ১৯৪৭। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ইন্ডিয়ান মেডিকেল সার্ভিস, নেটিভ মেডিকেল ইন্সটিটিউট ও কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ইতিহাস ও ঐতিহ্য ১৭৬৪-১৮৩৫ বুক।
পর সমাচার, ১৯৭১ সালের পরে এই যুদ্ধ পীড়িত ও যুদ্ধাহত নব স্বাধীন বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা এতটাই দুর্বল হয়ে পড়ে যে, অনেক গরীব, দুস্থ, অসহায় মানুষের সামান্য রোগের প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা প্রদানও সরকারের পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়ে। সেটা মনে করতে হলে, আমাদের সেই পূর্বের কথা স্মরণ করতে হবে যখন সামান্য কলেরা রোগে গ্রামের পর গ্রাম জনশূন্য হয়ে যেত, অসংখ্য মানুষ মারা যেত। যা জনবান্ধব বঙ্গবন্ধু’র সরকারকে ভাবিয়ে তোলে। ঠিক তখনি স্বল্প সময়ে সবার জন্য মৌলিক অধিকার চিকিৎসা সেবা প্রদান বাধ্যতামূলক করার জন্য বঙ্গবন্ধু’র সরকার স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা ১৯৭৩-১৯৭৮ ইং মোতাবেক পূ্র্বেকার এলএমএফ, এমএমএফ কোর্সের কারিকুলাম অনুসারে চিকিৎসা বিদ্যায় ডিপ্লোমা ইন মেডিকেল ফ্যাকাল্টি ‘ডিএমএফ’ কোর্স আন্তর্জাতিক ভাবে অনুমোদন করিয়ে নিয়ে আসেন। ১৯৭৬ সালে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় অনুমোদিত, রাষ্ট্রীয় চিকিৎসা অনুষদ কর্তৃক অধিভূক্ত, বাংলাদেশ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিল স্বীকৃত মেডিকেল এ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং স্কুল ( ম্যাটস্ ) এর মাধ্যমে ‘ডিএমএফ’ ডিপ্লোমা চিকিৎসকতা পেশা কোর্স টি প্রথম যাত্রা শুরু করে। বর্তমানে এদেশে ৯ টি সরকারি ম্যাটস্ ও প্রায় ২০৪ টি বেসরকারি ম্যাটস্ ডিপ্লোমা চিকিৎসকের ‘ডিএমএফ’ কোর্স টি পরিচালনা করে আসছে। এখানে ডিপ্লোমা মেডিকেল শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৯০,০০০ নব্বই হাজার। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের হিসেব অনুযায়ী প্রায় ১২ হাজার ডিপ্লোমা চিকিৎসক ‘উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার’ পদে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র, ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র, উপ-হাসপাতাল, জেলা হাসপাতাল সহ বিভিন্ন চিকিৎসা সেবা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছেন। এছাড়াও প্রায় ১৫,০০০ পনের হাজার ডিপ্লোমা চিকিৎসক বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক, স্বাস্থ্য কেন্দ্র, দেশি বিদেশি এনজিও স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্রে কর্মরত আছেন। বর্তমানে নতুন পাশ করা অনেক ডিপ্লোমা চিকিৎসক বেকার আছেন, যাদেরকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রায় ১৮ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিকে পদায়ন করা হলে কমিউনিটির জনগণের চিকিৎসা সেবায় বৈপ্লবিক উন্নতি সাধিত হবে বলে সাধারণ জনগণ মনে করেন। তখন কমিউনিটি ক্লিনিক সারাবিশ্বের বিভিন্ন দেশের স্বাস্থ্য বিষয়ক রোল মডেল হিসেবে আরো দৃঢ় ভাবে উপস্থাপিত হবে। এখনই এ বিষয়ে সরকারের জরুরি ব্যবস্থা নেয়া উচিত।
বাঙ্গালীর স্বপ্নদ্রষ্টা মুজিব বোঝতে পেরেছিলেন যে, এই ডিপ্লোমা চিকিৎসকদের পরবর্তীতে উচ্চশিক্ষার প্রয়োজন হবে, তাই তিনি বারং বার প্রথম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার পনের অধ্যায়ের ৫২০ ও ৫২১ পৃষ্টায় লেখে রেখে গেছেন এই মেডিকেল এ্যাসিস্ট্যান্ট প্র্যাকটিশনার-ডিপ্লোমা চিকিৎসকদের যেনো মেডিকেল সায়েন্সে কনডেন্সে উচ্চশিক্ষা ব্যাচেলর অব মেডিসিন এন্ড ব্যাচেলর অব সার্জারী ‘এমবিবিএস’ কোর্স করার সুযোগ দেয়া হয়। এ পরিকল্পনায় ডিএমএফ ডিপ্লোমা ডিগ্রিধারী ডিপ্লোমা চিকিৎসকদের উচ্চশিক্ষার বিষয়ে সুস্পষ্ট দিক নির্দেশনা দেয়া ছিল । মহামানব মুজিব অনুধাবন করতে পেরেছিলেন যে, অন্যান্য ডিপ্লোমা ডিগ্রিধারীদের যেমন; হোমিওপ্যাথি, ইউনানী, আয়ুর্বেদিক, নার্সিং, মিডওয়াইফারী, ইঞ্জিনিয়ারিং, টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং, মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং, মেডিকেল টেকনোলজী (ল্যাব, ফিজিওথেরাপি, রেডিওগ্রাফার, রেডিওলোজী), ফার্মেসি, কৃষি, ফিশারিজ, ফরেস্ট্রী প্রভৃতির উচ্চশিক্ষার ন্যায় ডিএমএফ ডিপ্লোমা চিকিৎসকদের জন্যেও উচ্চশিক্ষার ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। বাঙ্গালীর প্রাণপুরুষ মুজিব বোঝতে পেরেছিলেন যে, সারাবিশ্বে সায়েন্স বেক গ্রাউন্ডে ১২ ক্লাস হায়ার সেকেন্ডারি পর্যন্ত পড়ে মেডিকেল-ডেন্টাল সায়েন্সে স্নাতক এমবিবিএস, বিডিএস, (স্নাতক এমডি-দেশের বাহিরের) ইত্যাদি পড়তে পারলে, এসএসসি সায়েন্স বিভাগে পাস করে ৪ চার বছর (ডিএমএফ) ডিপ্লোমা পাস করার পর বিএম&ডিসি নিবন্ধিত ডিপ্লোমা চিকিৎসকগণ (সেকেন্ডারি প্লাস ডিপ্লোমা ৪ বছর) সর্বোমোট ১৪ ক্লাস পাশ করার পর অবশ্যই ‘এমবিবিএস’ ডিগ্রি কোর্সে ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার যোগ্যতা রাখেন। মহাকালের মহানায়ক মুজিব বোঝতে পেরেছিলেন যে, উচ্চ মাধ্যমিকে পদার্থ বিজ্ঞান, রসায়ন বিজ্ঞান, বায়োলজী সহ এইচএসসি পাশ করে একজন শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার জন্য মেডিকেল সায়েন্সে ‘এমবিবিএস’ অর্জনের সুযোগ পেলে মাধ্যমিকে পদার্থ বিজ্ঞান, রসায়ন বিজ্ঞান, বায়োলজী সহ এসএসসি পাশ করে ডিএমএফ কোর্সের ডিপ্লোমা মেডিকেল শিক্ষার্থীরা ম্যাটস্ সমূহে মেডিসিন, সার্জারী, গাইনী এন্ড অবস্টেট্রিকস্, এনাটমী, ফিজিওলজী, প্যাথলজী এন্ড মাইক্রোবায়োলজী, বায়োকেমিস্ট্রি, কমিউনিটি মেডিসিন, ফার্মাকোলজি, মেডিকেল জুরিসপ্রুডেন্স, কমিউনিটি হেলথ্, হেলথ্ ম্যানেজমেন্ট, বেসিক ইংলিশ, কম্পিউটার সায়েন্স ও মেডিকেল ইথিক্স বিষয়ে ১ বছরের ইন্টার্নীশিপ সহ সর্বোমোট ৪ চার বছর পড়াশোনা করে ‘ডিএমএফ’ ডিপ্লোমা পাশ করার পর অবশ্যই মেডিকেল সায়েন্সে ‘এমবিবিএস’ কোর্সে ভর্তি হওয়ার যোগ্যতা রাখেন। বাঙ্গালীর স্বপ্নদ্রষ্টা মুজিব বোঝতে পেরেছিলেন যে, উচ্চশিক্ষা রাষ্ট্রের প্রতিটা নাগরিকের মৌলিক অধিকার। তাই ডিএমএফ পাশ ডিপ্লোমা চিকিৎসকদের উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সুযোগ প্রদান করা হলে, উন্নত দেশের ন্যায় নিঃসন্দেহে বাংলাদেশেও চিকিৎসা সেবা খাতে বৈপ্লবিক উন্নয়ন সাধিত হবে। আজ বাঙ্গলীর স্বপ্নদ্রষ্টা মুজিব নেই, তাই তার স্বপ্ন প্রথম বার্ষিকী পরিকল্পনা ডিপ্লোমা চিকিৎসকদের ক্ষেত্রে সঠিক ভাবে বাস্তবায়ন হয় নি। যে প্রাণ পুরুষের জন্ম না হলে, এই সোনার বাংলার জন্ম হতো না, বাংলাদেশের জন্ম হতো না, যার জন্ম না হলে বাঙ্গালী জাতি মুক্তি পেতো না, আজও সেই মহামানবের স্বপ্ন প্রথম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা সমগ্র অসমাপ্তই রয়ে গেল! তবুও ডিপ্লোমা চিকিৎসকরা বিশ্বাস করেন, সেই দিনের অপেক্ষায় থাকেন, যে দিন আবারো কেউ আসবে, আসবেই বাঙ্গালীর প্রাণপুরুষ মুজিবের আদর্শ বক্ষে ধারন করে। যার চেতনার মূলমন্ত্র হবে, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী সন্তান বাঙ্গালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রথম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা সমগ্র বাস্তবায়ন করা। সকল ডিপ্লোমা চিকিৎসকদের প্রাণের দাবি, উচ্চতর শিক্ষায় সুযোগ সৃষ্টির লক্ষে বঙ্গবন্ধু কর্তৃক সৃষ্ট ডিএমএফ ডিপ্লোমা চিকিৎসকদের জন্য ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের ‘ঢাকা প্রকৌশলী ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়’ ডুয়েট এর মতো স্বতন্ত্র ‘বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ’ প্রতিষ্ঠা করা হোক। ডিপ্লোমা চিকিৎসকগণ স্বপ্ন দেখেন যে, তারা চিকিৎসা বিদ্যায় উচ্চশিক্ষিত চিকিৎসক হয়ে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য সেবা খাত কে জনগণের দোর-গোড়ায় পৌঁছে দেবেন, চিকিৎসা সেবা খাতকে পূর্ণাঙ্গ ডিজিটালাইজড্ করবেন।
ডিপ্লোমা চিকিৎসকতা পেশা একদিনে গড়ে উঠেনি। কয়েকজন স্বীয় স্বার্থবাদী ও নিমকহারামীদের জন্য এর অস্তিত্ব বিপন্ন হতে পারে না।
জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু।

লেখক : ডা. এম. মিজানুর রহমান (জনস্বাস্থ্যবিদ) 
তথ্য, গবেষণা ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক সহ সম্পাদক, বাংলাদেশ ডিপ্লোমা মেডিকেল এসোসিয়েশন- বিডিএমএ, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদ।
সাংগঠনিক সম্পাদক,
পাবলিক হেলথ্ স্পেশ্যালিস্ট এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ- পিএইচএসএবি, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদ।

বারংবার আবেদন করেও চাকরি না পেলে কী করণীয়?

বারংবার আবেদন করেও চাকরি না পেলে কী করণীয়?
ডি,এম,এফ কোর্সের ইন্টার্নী শেষ করার পর আপনার একটা চাকরি খুব প্রয়োজন। তাই বারংবার বিভিন্ন চাকরির জন্য আবেদন করছেন, সাক্ষাৎকার দিচ্ছেন, কিন্তু নিয়োগকর্তার পক্ষ থেকে খুশির বার্তা নিয়ে কোনো ফোন কল পাচ্ছেন না। ক্রমাগত এমন পরিস্থিতি মোকাবেলা করা সত্যিই খুব কঠিন। কেননা বেকার মানুষের কাছে দীর্ঘদিন ধরে চাকরি খোঁজার মতো পীড়াদায়ক কাজ আর কিছু হতে পারে না।
চাকরি না পাওয়ার এই অবস্থা ‘অ্যাপ্লিকেশন ব্ল্যাক হোল’ নামে পরিচিত, অর্থাৎ বারংবার অ্যাপ্লিকেশন করেও ফল হয় না। চাকরি প্রার্থী হিসেবে এমন অভিজ্ঞতা আপনার হতেই পারে। কিন্তু এই পরিস্থিতি অনেক আত্মবিশ্বাসী ও আশাবাদী আবেদনকারীদেরও হতাশ করে দেয়।
আপনিও যদি এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়ে থাকেন তবে নিরবতার এই দিনগুলোতে নিজের আত্মবিশ্বাস ধরে রাখতে নিজেকে অনুপ্রাণিত রাখুন। আপনাকে সহযোগিতা করতে এখানে কিছু পরামর্শ আলোচনা করা হলো।

গতি ধরে রাখুন

চাকরি পান আর না পান, নিয়মিত অনুসন্ধান করা এবং আবেদন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আপনাকে ক্রমাগত চাকরির আবেদন করে যেতে হবে। কখনো আবেদনের সংখ্যা গণনা করে হাঁপিয়ে উঠবেন না। কত সংখ্যক বার আবেদন করবেন সেটা নির্ধারণ করার দরকার নেই, বরং দৃঢ় প্রত্যয় রাখুন আপনাকে চাকরি পেতেই হবে। তার জন্য যত হাজারবার প্রয়োজন হয় আবেদন করবেন।
চাকরি খোঁজা আপনার প্রতিদিনকার প্রধান কাজ হিসেবে বিবেচনা করুন। তার জন্য দৈনিক, সাপ্তাহিক, এবং মাসিক রুটিন তৈরি করুন। প্রতিদিন কত সময় নতুন চাকরি অনুসন্ধানে ব্যয় করবেন, এবং সপ্তাহে কতগুলো আবেদন করবেন তার সংখ্যা নির্ধারণ করুন। নিয়ম করে প্রতি সপ্তাহে পর্যাপ্ত সংখ্যক আবেদন পত্র জমা দিন। প্রয়োজনে আবেদনের সাপ্তাহিক তালিকা প্রস্তুত করুন। তালিকা অনুযায়ী সাক্ষাৎকার এবং অন্যান্য বিষয়ের খোঁজ খবর রাখুন।
আপনি যদি পুরোপুরি বেকার হয়ে থাকেন তবে স্থানীয় কোনো কাজের সাথে নিজেকে সম্পৃক্ত করার চেষ্টা করুন। এক্ষেত্রে আপনি কোনো বেতন পাবেন কিনা সেটা মুখ্য বিষয় নয়, বরং নিজের দুশ্চিন্তাগ্রস্ত অবসর সময় অতিবাহিত করার উপায় হিসেবে স্থানীয় কাজে যুক্ত হোন। প্রয়োজনে চাকরির আবেদন এবং সাক্ষাৎকার পরবর্তী অবসর সময় নিজেকে প্রফুল্ল রাখতে স্থানীয় ছেলে মেয়েদের সাথে নিয়ে সাংস্কৃতিক বা খেলাধুলার ক্লাব গড়ে তুলুন।

আপনার প্রচেষ্টা হালনাগাদ করুন

কাঙ্ক্ষিত চাকরি প্রাপ্তির জন্য আপনার প্রচেষ্টা হালনাগাদ করুন। নতুন নতুন চাকরির সন্ধান দিয়ে থাকে এমন ওয়েবসাইট এবং অ্যাপসগুলো সব সময় পর্যবেক্ষণ করুন। প্রয়োজনে সেইসব সাইটের নোটিফিকেশন অন করে রাখুন। যেসব চাকরি অনুসন্ধান সাইট রেজিস্ট্রেশন করার সুযোগ দেয়,
সেসব সাইটে রেজিস্ট্রেশন করে নিজের প্রোফাইল তৈরি করুন। এবং সাইটগুলোকে ইমেইলে চাকরির বিজ্ঞাপন করার সুযোগ দিন। প্রতিদিন এসব নোটিফিকেশন মনোযোগ দিয়ে পর্যবেক্ষণ করুন এবং সবার আগে নতুন চাকরির আবেদন করার চেষ্টা করুন।

নিয়ম নীতি জানুন

অনেক সময় যোগ্য আবেদনকারী হওয়া সত্ত্বেও সঠিকভাবে নিয়ম নীতি না জেনে আবেদন করার কারণে আপনার আবেদন বাতিল হতে পারে। নতুন কোনো চাকরির আবেদন করার পূর্বে ভালোভাবে নিয়ম নীতিগুলো পড়ুন এবং সব চাকরির আবেদনে একই বায়োডাটা এবং কভার লেটার পাঠানো বন্ধ করুন।
ভিন্ন ভিন্ন চাকরির জন্য ভিন্ন ভিন্ন আবেদন পত্র এবং কভার লেটার প্রস্তুত করুন। চাকরির বিজ্ঞাপনে উল্লেখ করা নিয়মনীতি অনুসরণ করে সুনির্দিষ্ট চাকরির জন্য সুনির্দিষ্ট কিছু কিওয়ার্ড এবং বক্তব্য আপনার আবেদন পত্র, বায়োডাটা এবং কভার লেটারে যুক্ত করুন।
বর্তমানে অধিকাংশ কোম্পানি নতুন কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে অ্যাপ্লিকেশন ট্রাকিং সিস্টেম ব্যবহার করে। এই সিস্টেমের আওতায় তারা একটি বিশেষ অ্যাপ্লিকেশন ফরমেট আবেদনকারীদের জন্য সরবরাহ করেন। যেখানে আবেদনকারীর দক্ষতা, যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা, শিক্ষাগত যোগ্যতা ইত্যাদি তথ্য ইনপুট করার সুযোগ থাকে।
যত দ্রুত সম্ভব আপনার আবেদনপত্রটি অ্যাপ্লিকেশন ট্রাকিং সিস্টেমের আওতায় সাবমিট করুন। আপনার আবেদনটি কাজের বিবরণে উল্লেখিত কীওয়ার্ডের উপর ভিত্তি করে দ্রুত মূল্যায়ন করা হবে এবং আপনাকে ফলাফল জানানো হবে। সুতরাং কীওয়ার্ড দেখে সঠিক চাকরির জন্য আবেদন করুন।

কোম্পানি গবেষণা

আপনি যদি সুনির্দিষ্ট কোনো ক্ষেত্রে চাকরি পেতে চান তাহলে কাঙ্ক্ষিত কোম্পানি নিয়ে বিস্তারিত গবেষণা করুন। সেই কোম্পানি সম্বন্ধে যাবতীয় তথ্য জানার চেষ্টা করুন। কোম্পানির ব্লগ, প্রেস রিলিজ এবং ওয়েবসাইট ভালভাবে পড়ুন। পত্রিকায় প্রকাশিত তাদের বার্ষিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করুন। তাদের লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য সম্বন্ধে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করুন। কোম্পানির বার্ষিক আয় ব্যয়ের হিসাব, কর্মীসংখ্যা, কাজের পরিধি এবং সাফল্য ব্যর্থতা সম্বন্ধে বিস্তারিত গবেষণা করুন।
গুগল সার্চ করে উক্ত কোম্পানি নিয়ে পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদন এবং সংবাদ পড়ুন। কোম্পানির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনুসরণ করুন।
তাদের নতুন চাকরির বিজ্ঞাপন দেখামাত্র দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করুন এবং বিভিন্ন বিষয়ে তার সাথে কথোপকথন শুরু করুন। কোম্পানির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আপনার আগ্রহের কথা প্রকাশ করুন। সুন্দর সম্পর্ক গড়ে তুলুন এবং নিয়ম মেনে চাকরির আবেদন করুন।

নেটওয়ার্কিং এবং মনোযোগ

কাঙ্ক্ষিত চাকরি পেতে নেটওয়ার্কিংয়ের কোনো বিকল্প নেই। তবে নেটওয়ার্কিং নিয়ে আমাদের মধ্যে কিছু ভুল ধারণা আছে। আমরা সাধারণত নেটওয়ার্কিং মানে কর্পোরেট জগতে সমমনা কর্মী এবং ব্যক্তির সাথে যোগাযোগকে বুঝি। কিন্তু আসলে নেটওয়ার্কিং মানে শুধু সমমনা ব্যক্তি এবং কর্মীর সাথে যোগাযোগ নয়।
আপনি যেহেতু চাকরি খুঁজছেন, তাই আপনাকে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করতে হবে। আপনি হয়তো যাকে অগুরুত্বপূর্ণ ভাবছেন তার হাত ধরেই পেয়ে যেতে পারেন কাঙ্ক্ষিত চাকরি। তাই নেটওয়ার্কিংয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিন। ক্যারিয়ার এবং ব্যবসা সম্পর্কিত বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যোগ দিন এবং নতুন নতুন মানুষের সাথে পরিচিত হওয়ার চেষ্টা করুন। এভাবে নিজের পরিচিতি বাড়াতে থাকলে আপনি নিশ্চয়ই উপযুক্ত ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠান খুঁজে পাবেন, যারা আপনার স্বপ্নের চাকরি নিশ্চিত করবে।
বেকার অবস্থায় চাকরি খোঁজা সত্যিই খুব কঠিন কাজ। কিন্তু আপনাকে ধৈর্য ধরে ক্রমাগত এ কাজ করতে হবে। মনে রাখবেন ধৈর্য্যের ফল মিঠা হয়।

Source : DMF Platform

সব উচ্চ শিক্ষা সম্মান বাড়ায়, কিন্তু সব উচ্চ শিক্ষা উপার্জন বাড়ায় না।

সব উচ্চ শিক্ষা সম্মান বাড়ায়, কিন্তু সব উচ্চ শিক্ষা উপার্জন বাড়ায় না।

উচ্চ শিক্ষা মানে শুধু সার্টিফিকেট অর্জনের জন্য নয়, এমন বিষয় বেছে নিন, যা আপনাকে ভবিষ্যতে ভালো আয়ের সুযোগ দিবে। আমাদের সবার মুল উদ্দেশ্য কিন্তু উপার্জন। এইটুকু ভেবেই সাবজেক্ট পছন্দ করুন।
  • এমপিএইচ ভর্তির আগে ভালো করে ভাবুন, কোথায় কোথায় কাজের সুযোগ পাওয়া যাবে।
  • অপ্টোমেট্রি তে উচ্চ শিক্ষা নেওয়ার আগে দেখুন বৈধ ভাবে প্রাকটিস করতে পারবেন কিনা?
  • সাইকোথেরাপি অনেক ভালো সাবজেক্ট। কাজের সুযোগ প্রচুর। তেমনি ফিজিওথেরাপিতেও ভালো সুযোগ আছে।
  • কেউ যদি বিদেশে ডিগ্রী অর্জন করতে চান, তাহলে এমন বিষয় পছন্দ করুন, যা আপনাকে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ইউ কে তে স্থায়ী বসবাসের জন্য সুযোগ করে দিবে।
আরো অনেক সাবজেক্ট এ পড়াশুনা করতে পারেন। অন্যের দেখাদেখিতে উচ্চ শিক্ষা নয়, ভিজিটিং কার্ড প্যাডে ব্যবহারের জন্য উচ্চ শিক্ষা নয়, উচ্চ শিক্ষা হোক আপনার ভবিষ্যৎ গড়ার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে চলা।
মোটকথা পা বাড়ানোর আগেই চিন্তা করবেন, কত খরচ করছেন, কত উঠে আসবে, কত লাভ পাবেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য কি সঞ্চয় করতে পারবেন। সব উচ্চ শিক্ষা সম্মান বাড়ায়, কিন্তু সব উচ্চ শিক্ষা উপার্জন বাড়ায় না।

 Blog Writer : Syed Jahed Hossain