বুধবার, ১১ আগস্ট, ২০২১

গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী নারীদের করোনার টিকা প্রদানের সিদ্ধান্ত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের

গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী নারীদের করোনার টিকা প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। আজ ৮ ই আগস্ট স্বাস্থ্য অধিদপ্তর হতে এ সংক্রান্ত দিকনির্দেশনা প্রদান করে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় গর্ভবতী নারীগণকে সুরক্ষা ওয়েব পোর্টাল/ অ্যাপসের মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্নকরণ পূর্বক শুধুমাত্র হাসপাতাল বিশিষ্ট সরকারি টিকাদান কেন্দ্রে কোভিড-১৯ টিকা প্রদান করতে হবে। এক্ষেত্রে টিকা প্রদানের পূর্বে টিকাকেন্দ্রে রেজিস্টার্ড চিকিৎসক কর্তৃক কাউন্সেলিং সম্পন্ন সাপেক্ষে গর্ভবতী নারীকে টিকা প্রদান আবশ্যক বলে জানায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

এক্ষেত্রে শর্ত হিসাবে বলা হয় – গর্ভবতী নারী টিকা গ্রহণের দিন অসুস্থ থাকলে, দীর্ঘমেয়াদী রোগে আক্রান্ত থাকলে, এলার্জির পূর্ব ইতিহাস থাকলে টিকা গ্রহণ হতে বিরত থাকতে হবে। অন্যদিকে, সকল শর্তসাপেক্ষে ১ম ডোজ গ্রহণের পর এইএফআই কেস হিসাবে শনাক্ত হলে তাঁকে ২য় ডোজ প্রদান থেকে বিরত থাকতে হবে। তবে টিকা গ্রহণের পূর্বে সম্মতিপত্রে টিকাগ্রহীতা/ আইনানুগ অভিভাবক ও কাউন্সেলিং চিকিৎসকের স্বাক্ষর ব্যতীত টিকা প্রদান করা যাবেনা।


সূত্রঃ প্ল্যাটফর্ম নিউজ

শনিবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২১

আজও ১০১ মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ৩৪৭৩ জন



দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরও ১০১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মোট মৃত্যু সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ২৮৩ জনে। সেইসঙ্গে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে অক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন আরও তিন হাজার ৪৭৩ জন। এ নিয়ে মোট শনাক্ত হয়েছেন সাত লাখ ১৫ হাজার ২৫২ জন।

শনিবার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তি থেকে এ তথ্য জানা গেছে। এর আগে শুক্রবারও কভিডে আক্রান্ত হয়ে দেশে ১০১ জনের মৃত্যু হয়; যা একদিন ব্যবধানে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ। এছাড়া এ দিন নতুন শনাক্ত হন চার হাজার ৪১৭ জন।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা আক্রান্ত থেকে সুস্থ হয়েছেন পাঁচ হাজার ৯০৭ জন। এ নিয়ে মোট সুস্থ হয়েছেন ছয় লাখ আট হাজার ৮১৫ জন। অর্থাৎ শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৮৫ দশমিক ১২ শতাংশ। এছাড়া শনাক্ত বিবেচনায় মৃত্যু হার এক দশমিক ৪৪ শতাংশ। আর টেস্ট বিবেচনায় শনাক্তের হার ২১ দশমিক ৪৬ শতাংশ।

গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা সংগ্রহ করা হয় ১৫ হাজার ৪১৩টি। এরমধ্যে সবমিলে নমুনা পরীক্ষা করা হয় ১৬ হাজার ১৮৫টি। এ নিয়ে মোট নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৫১ লাখ ৫০ হাজার ৬৬৩টি।

গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু হওয়া ১০১ জনের মধ্যে পুরুষ ৬৯ জন। আর নারী ৩২ জন। পুরুষ মৃত্যু হার ৭৪ দশমিক ২৫ শতাংশ। নারী মৃত্যু হার ২৫ দশমিক ৭৫ শতাংশ। এ পর্যন্ত সাত হাজার ৬৩৫ জন পুরুষের মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে দুই হাজার ৬৪৮ জন নারীর মৃত্যু হয়েছে। মারা যাওয়া ১০১ জনের মধ্যে তিনজন ২১ থেকে ৩০ বছরের। সেইসঙ্গে ৩১ থেকে ৪০ বছরের তিনজন। ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে আটজন। ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ২৯ জন। ৬০ বছরের বেশি বয়সী মারা গেছেন ৫৮ জন। তবে শনাক্ত কিছুটা কমছে। শুক্রবার যেখানে শনাক্ত হন চার হাজার ৪১৭ জন, সেখানে শনিবার শনাক্ত তিন হাজার ৪৭৩ জন। গত ৭ এপ্রিল শনাক্ত হন সাত হাজার ৬২৬ জন; যা দেশে একদিনে ব্যবধানে শনাক্তে সর্বোচ্চ। এছাড়া গত ৬ এপ্রিল একদিনে করোনা শনাক্ত হয়েছিল সাত হাজার ২১৩ জনের।

গতবছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হন। এর ১০ দিন পর ১৮ মার্চ দেশে করোনায় আক্রান্ত হয়ে প্রথম একজনের মৃত্যু হয়। এরপর থেকে মাঝখানে কিছু কমলেও আক্রান্ত এবং মৃত্যু ক্রমেই বাড়ছে।

Sourse : Somokal 

বৃহস্পতিবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২১

দুর্ভোগ এড়াতে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের দাপ্তরিক পরিচয়পত্র ব্যবহারের নির্দেশ


গত ১৪.০৪.২০২১ ইং তারিখে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে চিকিৎসা সেবা এবং এর সাথে জড়িত চিকিৎসক, নার্সসহ অন্যান্য সকল স্বাস্থ্যকর্মীদের আবশ্যিকভাবে দাপ্তরিক পরিচয়পত্র ব্যবহার করার জন্য বলা হয়।


উদ্ভূত করোনা পরিস্থিতিতে চিকিৎসা সেবা প্রদানের নিমিত্তে যাতায়াতকৃত চিকিৎসকদের আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী কর্তৃক হয়রানি স্বীকারের প্রেক্ষিতে এ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে করোনা মহামারিতে লক ডাউন চলাকালীন সময়ে স্বাস্থ্যসেবার সাথে জড়িত সকলের যাতায়াতের সময় সার্বিক সহযোগিতা করার জন্যে আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সার্বিক সহযোগিতা করার জন্যও অনুরোধ করা হয়।


SOURCE : Platform

মঙ্গলবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২১

১৪ এপ্রিল থেকে সাতদিনের কঠোর ‘লকডাউন- প্রজ্ঞাপন জারি




আগামী ১৪ এপ্রিল থেকে ২১ এপ্রিল, সাত দিনের জন্য চলাচল ও কার্যক্রমে বিধি-নিষেধ আরোপ করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ আজ সোমবার (১২ এপ্রিল) এসব বিধি-নিষেধ জানিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।


গতবছরের শেষে এবং এ বছরের প্রথম দিকে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ কমে যেতে থাকলেও মার্চ থেকে সংক্রমণ বাড়তে থাকে। এরপর গত ৫ এপ্রিল ভোর ৬টা থেকে সাত দিনের লকডাউন বা বিধি-নিষেধ জারি করে সরকার। জরুরি প্রয়োজনে সীমিত পরিসরে অফিস চালু রেখে এ বিধি-নিষেধের মেয়াদ ১১ এপ্রিল রাত ১২টায় শেষ হয়েছে। প্রথম দফার এই ‘লকডাউনে’ গণপরিবহন ও শপিংমল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হলেও গত বুধবার শর্তসাপেক্ষে গণপরিবহনে চলাচলের অনুমোদন দেয় সরকার। আর শুক্রবার থেকে শপিংমল ও দোকানপাটও খোলা হয়।


কিন্তু দেশে এই চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হলেও তা কার্যকর হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। তাই আগামী ১৪ এপ্রিল থেকে ২১ এপ্রিল, সাত দিনের জন্য চলাচল ও কার্যক্রমে কঠোর বিধি-নিষেধ আরোপ করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার।


প্রজ্ঞাপনের বিধিনিষেধ গুলো হলোঃ


★শপিংমলসহ সব দোকানপাট বন্ধ থাকবে।

★সকাল ৯টা-বিকাল ৩টা উম্মুক্তস্থানে কাঁচাবাজার বসবে।

★শিল্প-কারখানা নিজস্ব স্বাস্থ্যবিধি মেনে খোলা থাকবে।

★জরুরি সেবা বাদে সব পরিবহন বন্ধ থাকবে।

★জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হওয়া যাবে না।

★জুমা ও তারাবিহ বিষয়ে নির্দেশনা দেবে ধর্ম মন্ত্রণালয়।

★সরকারি-বেসরকারি সব অফিস বন্ধ থাকবে।


এসব বিধি-নিষেধ কঠোরভাবে পালনের জন্য সংশিষ্ট মন্ত্রণালয়/বিভাগের সচিবদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।


নিজস্ব প্রতিবেদকঃ MDBFD

সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ

 


বিশ্বব্যাপি করোনার সংক্রমণ কমে আসার প্রেক্ষিতে দেশেও যে স্বস্তি ফিরে এসেছিল মাত্র এক মাসের ব্যবধানে তা আবার রুপ পাল্টে ফেলেছে। গত বছরের জুলাই মাসে একদিনে ৪০১৯ জনের দেহে শণাক্তকে যখন সর্বোচ্চ সংক্রমণ ধরা হয়েছিল তার থেকেও এবার তা ছাড়িয়ে গেছে। গত ২৯ মার্চ সর্বোচ্চ সংক্রমণ হয়েছে ৫ হাজার ১শ ৮১ জনের। গত ফেব্রুয়ারি মাসের ২৪ তারিখে দেশে মৃত্যুর সংখ্যা ৫ জনে কমে এলেও মার্চের শেষ সপ্তাহে সেই গতি উর্দ্বশ্বাসে ছুটছে। মোট সংক্রমণের পরিমাণও ৬ লাখ ছাড়িয়ে গেছে।

এ অবস্থায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেছেন, এ অবস্থা চলতে থাকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে অতিরিক্ত মহাপরিচালক সেব্রিনা ফ্লোরা সবাইকে সতর্ক হবার আহবান জানিয়েছেন।২৯ মার্চ অনেকদিন পর এক সংবাদ সম্মেলন করে তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপি করোনার টিকারও সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে দেশে নতুন করে প্রথম ডোজ ও আগে প্রাপ্ত সবাইকে দ্বিতীয় ডোজ টিকা দেয়া নিয়ে সংশয় তৈরি হতে পারে। স্বাস্থ্যবিধি মানাতে জেলায় জেলায় শুরু হয়েছে অভিযান।

করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগির সেবা দিতে নতুন করে কোভিড-১৮ ডেডিকেটেড হাসপাতাল প্রস্তুত করা হয়েছে। এ মুহুর্তে দেশে চলছে করোনার টিকাদান প্রক্রিয়া। যারা ১ম ডোজ নিয়েছেন তাদেরকে দ্বিতীয় ডোজ দেয়ার প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। উপহার আর কেনাসহ দেশের এসেছে ১ কোটি ২ লাখ ডোজ টিকা। তবে ভারত থেকে টিকা রপ্তানী বন্ধ হয়ে গেছে দেশে প্রথম ডোজের টিকা দেয়া বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে বিবিসিকে জানিয়েছেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। অধিদপ্তরের মুখপাত্র ডা. মোহাম্মদ রোবেদ আমিন বিবিসিকে বলেন, ‘‘ভারত যদি টিকা রপ্তানী বন্ধ করে দেয় এবং তার ফলে আর কোনো টিকা যদি না আসে তাহলে নতুন করে টিকা দেয়া কঠিন হয়ে পড়বে।’’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেয়া তথ্য অনুযায়ী শুক্রবার পর্যন্ত দেশে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা পাঁচ লাখ ৮৮ হাজার ১৩২ জন। মারা গেছেন ৮ হাজার ৮৩০ জন।

মহামারি করোনা বিশ্বজুড়ে প্রতিদিনই নতুন চেহারায় রুপ নিচ্ছে। সেইসঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন জনপদে আক্রান্ত করছে অসংখ্য মানুষকে। গত ২৪ ঘণ্টায় বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাসে প্রাণ গেছে আরও ১১ হাজারের বেশি মানুষের। বিশ্বে মোট আক্রান্ত ১২ কোটি ৬৭ লাখ ছাড়িয়েছে। মৃতের সংখ্যা ২৭ লাখ ৮০ হাজার পার হয়েছে।

ব্রাজিলে লাগামহীনভাবে বাড়ছে সংক্রমণ। দেশটিতে রেকর্ড ৩ হাজার ৬শ’ প্রাণ গেছে একদিনে। সাড়ে ৮২ হাজারের ওপর নতুন আক্রান্ত শনাক্ত। দেশটির মোট প্রাণহানি ৩ লাখ ৭ হাজার ছাড়িয়েছে।

একদিনে পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যু হয়েছে আরও ১ হাজার ২১৬ জনের। ৫ লাখ ৬১ হাজারের ওপর মোট মৃত্যু। নতুন আক্রান্ত শনাক্ত প্রায় ৭৪ হাজার। শুক্রবার ৬শ’য়ের কাছাকাছি মৃত্যু হয়েছে স্পেন ও মেক্সিকোয়।

এছাড়া ইতালি ও পোল্যান্ডে মারা গেছে সাড়ে চারশ’র মতো মানুষ। ২০১৯ সালের শেষ দিকে চীনের উহানে প্রথম করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ে। গত বছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্তের ঘোষণা আসে। দেশে প্রথম করোনায় সংক্রমিত ব্যক্তির মৃত্যুর ঘোষণা আসে ১৮ মার্চ।